- Home
- ক্যান্সার
- ব্রেস্ট ক্যান্সার
- ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সার
ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সার
- By Daily Naya Diganta
- ব্রেস্ট ক্যান্সার
-
Rating:




ব্রেস্ট মা ও মেয়েদের মাতৃত্ব ও সৌন্দর্যের প্রতীক শৈশব থেকে নারীত্ব এই সময়ের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে। নারী এই ক্যান্সার মরণব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে যেকোনো সময় এবং সচেতন না হলে কেড়ে নিতে পারে আপনার মহামূল্যবান প্রাণ। সারা বিশ্বে ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা অনেক। এখন প্রতি বছরই বেড়ে চলছে।
ব্রেস্ট ক্যান্সার কেন হয় ?
নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। তাই একাধিক কারণকে স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী করা হয়ঃ
জেনিটিক ফ্যাক্টরঃ
যেমন মা-খালা এদের থাকলে সন্তানদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
অবিবাহিতা বা সন্তানহীনা মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি।
একই রকমভাবে যারা সন্তানকে কখনো স্তন্য পান করাননি তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার বেশি হয়।
৩০ বছরের পরে যারা প্রথম মা হয়েছেন তাদের স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা একজন কমবয়সী মা হওয়া মহিলাদের থেকে অনেক বেশি।
বয়স যত বাড়ে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বৃদ্ধি পায়।
অল্প বয়সে সন্তান নিলে, দেরিতে মাসিক শুরু হলে, তাড়াতাড়ি মাসিক বন্ধ হলে স্তন ক্যান্সার বেড়ে যায়।
একাধারে অনেক দিন জন্ম নিরোধক বড়ি খেলেও স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। উপরোক্ত কারণগুলো ব্রেস্ট ক্যান্সারের সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে এগুলো একমাত্র কারণ নয়।
কি করে স্তন ক্যান্সার বুঝবেনঃ
সাধারণত ৩০ বছরের পূর্বে এই রোগ কম হয়।
বেশিরভাগ রোগী বুকে চাকা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।
বুকে চাকা সেই সাথে কিছু কিছু রোগী ব্যথার কথাও বলে থাকে।
কখনো কখনো বুকে চাকা এবং বগলেও চাকা নিয়ে রোগ আসতে পারে।
নিপল ডিসচার্জ এবং নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়াও এ রোগের লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
কিছু কিছু রোগী বুকে ফুলকপির মতো ঘা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে।
অনেক সময় যে বুকে ব্যথা সেদিকের হাত ফোলা নিয়ে আসতে পারে।
এগুলো ছাড়া ব্রেস্ট ক্যান্সার দূরবর্তী কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে এমন উপসর্গ নিয়ে আসে, যেমনঃ হাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও জন্ডিস ইত্যাদি।
কিভাবে রোগ নির্ণয় করা যাবেঃ
মেমোগ্রাম বা স্তনের বিশেষ ধরনের পরীক্ষা
স্তনের আলট্রাসনোগ্রাম
চাকা বা টিউমার থেকে রস নিয়ে পরীক্ষা করলে এই রোগ ধরা পড়বে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারে কী কী চিকিৎসা আছেঃ
সম্ভব হলে সার্জারি করাই উত্তম। তা ছাড়া কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপি, হরমোন থেরাপি ইত্যাদি।
কিভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা যায়ঃ
৩০ বছরের বেশি বয়স হলে নিজে নিজে ব্রেস্ট পরীক্ষা করতে হবে কোনো চাকা পাওয়া যায় কি না। চাকা পাওয়া গেলে সাথে সাথে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
বয়স ৫০-এর উপরে হলে বছরে এক বার মেমোগ্রাম করতে হবে।
কোনো প্রকার সন্দেহ হলে ডাক্তারের কাছে দেখা করতে হবে।
এই রোগ এড়ানোর উপায় কী?
যেহেতু রোগটির নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তাই এই রোগ এড়ানোর জন্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়ঃ
৩০ বছর বয়স থেকে নিজে নিজে ব্রেস্ট পরীক্ষা করুন।
রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে সে ক্ষেত্রে মেমোগ্রাফি করুন। যেমনঃ ফ্যামিলিতে ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে।
৩০ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার চেষ্টা করুন।
সন্তানকে বুকের দুধ পান করান।
টাটকা শাকসবজি ও ফল খান এবং ধূমপান ত্যাগ করুন।
সন্দেহ হলে ক্যান্সার সার্জনের শরণাপন্ন হন।
উপসংহারঃ মনে রাখবেন প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিরূপণ করলে এবং চিকিৎসা করলে আপনি অনেক দিন সুস্থ থাকবেন। সার্জারি করার সময় টিউমারটি বগলে লসিকাগ্রন্থিসহ অপসারণ করলে এই রোগ আবার দেখা দেয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অসম্পূর্ণভাবে টিউমার অপসারণ করলে এই রোগ আবার হতে পারে। বর্তমানে অপারেশন টেকনোলজি অনেক উন্নতি লাভ করছে, যার ফলে এই রোগের চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই সম্ভব। তা ছাড়া অ্যাডভান্স ব্রেস্ট ক্যান্সারে এখন টিউমার ফেলে দিয়ে ব্রেস্ট এরিয়া রিকন্সট্রাকশনও করা হচ্ছে।
লেখকঃ ডা.এম এ হাসেম ভূঞা
সহযোগী অধ্যাপক সার্জারি বিভাগ,
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।
দৈনিক নয়াদিগন্ত, ১১ নভেম্বর ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত