- Home
- রোগ, কারণ ও প্রতিরোধ
- ডায়াবেটিস
- ইনসুলিন নিয়ে নানা তথ্য
ইনসুলিন নিয়ে নানা তথ্য
- By Health Info
- ডায়াবেটিস
-
Rating:




ইনসুলিন ডায়াবেটিস নিরাময় করে এমন একটি কথা, বলা যায় কল্পকথা চালু আছে। টাইপ ১ ডায়াবেটিস-এর জন্য ইনসুলিন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বটে, তবে ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিস নিরাময় করা যায় না, নিয়ন্ত্রণ করা যায় অবশ্যই। অগ্নাশয়ের বিটাকোষকে নিয়ে কাজ করে ইনসুলিন, যা গস্নুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে। রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন ইনসুলিন।
ইনসুলিন ইনজেকশন জীবন করবে বিশৃঙ্খল এমন কথাও চালু আছে। ইনসুলিন ইনজেকশন ব্যবস্থাপত্র দিলে আতঙ্কিত হবার কোনই কারণ নেই। ইনজেকশন নিলে ঘরে বন্দী হয়ে থাকবে, যথা ইচ্ছা বিচরণ করা যাবে না এমন কথা মিথ্যা মাত্র। এক সময় ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া হয়ে পড়বে জীবনাচরণের অংশ মাত্র। জীবন ধারার সঙ্গে মানানসই একটি মাত্রা গ্রহণের সূচী বেঁধে দিতে পারেন চিকিৎসক, আর চাহিদা ভেদে নানা ধরনের ইনসুলিন প্রচলিত রয়েছে। ইনসুলিন কলম ও ইনসুলিন পাম্পের মত প্রযুক্তি দৈনন্দিন জীবনকে করেছে আরো সহজ ও নমনীয়। ডায়াবেটিসের ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হয়েছে এজন্য ইনসুলিন ইনজেকশন প্রয়োজন হল এমন ধারণাও ভুল। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হয়েছে বা রোগের জটিলতা হয়েছে এ জন্য ইনসুলিন ইনজেকশন লাগছে, এমন ধারণাও সত্য নয়। প্রয়োজনে ইনসুলিন লাগে। বছর বছর সকল ব্যবস্থাপনার পরও টাইপ ২ ডায়াবেটিস অনেক বেশি এমন এক অবস্থায় উপনীত হন যখন রক্ত গস্নুকোজ নিয়ন্ত্রণ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য ইনসুলিন ব্যবহার ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। এটি রোগীর কোনও ত্রম্নটির জন্য নয়, এটি ডায়াবেটিসের স্বাভাবিক অগ্রসর যাত্রা মাত্র। ইনসুলিন ইনজেকশনে ব্যথা লাগে এ কথাও ভুল। ইনজেকশন নিতে হয় এমন অনেকের সচরাচর অভিযোগ হল সূচের ভীতি। আজকালের ইনসুলিন সিরিঞ্জ ও পেন বেদনাহীন। এই ভয় অতিক্রম করার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো নিজে নিজে ইনজেকশন নেয়া। প্রাথমিক পরিচর্যার ডাক্তার দেখিয়ে দেবেন কিভাবে ইনজেকশন নিতে হয়। নিজে চেষ্টা করার পরও যদি ব্যথা লাগে তাহলে পরামর্শ নিন।
ইনসুলিন ইনজেকশন নিলে রক্ত শর্করা কমে যাবার ঘটনা বেশি বেশি ঘটবে এমন ধারণাও অমূলক। ইনসুলিন ইনজেকশন নিলে রক্ত শর্করা কমার ঝুঁকি থাকবে, তবে এমন ইনসুলিন রয়েছে যা নিলে রক্ত শর্করা হ্রাসের ঘটনা বিরল। টাইপ ২ ডায়াবেটিস রয়েছে এমন লোকের মধ্যে রক্ত শর্করা হ্রাসের ঘটনা ঘটে কদাচিৎ। এ ধরনের ঘটনা এড়াবার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো, সঠিক কিভাবে ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া যায় তা জানা ও শেখা। এও জানা গুরুত্বপূর্ণ, জরুরি অবস্থায় রক্ত শর্করা হ্রাস হলে কিভাবে মোকাবিলা করা যায়। রক্ত শর্করা হ্রাস প্রতিরোধ সম্বন্ধেও ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো।
ইনসুলিন ইনজেকশন নিলে শরীরের ওজন বাড়ে এমন ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে অনেকের। ইনসুলিন ক্ষুধার উদ্রেক করে বটে তবে ওজন বাড়ার ঝুঁকির চেয়েও বেশি সুফল লাভ ঘটে ইনজেকশন নিলে। ব‘ত ওজন বাড়ার ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত আহারের জন্য। ফল ও শাক-সবজি সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর আহার এবং নিয়মিত ব্যায়াম হলো ওজন বাড়া প্রতিরোধে কার্যকর উপায়।
ইনসুলিন যত্রতত্র ইনজেকশনে সমস্যা নেই, এমন কথা চালু আছে। তবে ইনসুলিন স্থান বিশেষে ইনজেকশন নিলে এটি এর শোষণ হার নির্ধারণ করে। উদরে ইনজেকশন নিলে শোষণ দ্রুত হয়, উরু ও নিতম্বে নিলে শোষণ হয় ধীরে। বাহুতে ইনজেকশন নিলে মাঝামাঝি গতিতে শোষণ হয়। যেখানেই ইনসুলিন ইনজেকশন দেয়া হোক না কেন, দেহের মেদবহুল স্থানে বেশ কয়েকটি ইনজেকশন নিলে ত্বকের নিচে চর্বির গুটি উঠে। এতে ইনসুলিন শোষণ বিঘ্নিত হতে পারে।
একবার ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া শুরু করলে আর বন্ধ করা যায় না এমন ধারণাও আছে অনেকের।
টাইপ ১ ডায়াবেটিস হলে যা হয় তা হলোঃ আর কেন হয় তা আগে বলিঃ অগ্নাশয়ের ভেতরে বিটাকোষগুলো যা ইনসুলিন তৈরি করে সেগুলো ক্রমে ক্রমে ধ্বংস হয়ে যায় আর এক সময় সেই কোষগুলো আর ইনসুলিন নিঃসরণ করতে পারে না। সেজন্য যাদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস এদের প্রয়োজন হয় ইনসুলিন। এ ছাড়া আরো লাগে যথাযথ খাদ্য ও ব্যায়াম। টাইপ ২ ডায়াবেটিস যাদের, রোগ নির্ণয়ের সময় এদের দেহে অগ্নাশয় তখনও ইনসুলিন নিঃসরণে সক্ষম থাকলেও কালক্রমে অগ্নাশয়ের বিটাকোষের উপর কঠোর চাপ পড়ে পড়ে অতিরিক্ত কাজকর্মে শ্রান্ত হয়ে পড়ে অগ্নাশয়, এক সময় সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে পড়ায় ইনসুলিন ক্ষরণে অক্ষম হয়ে পড়ে।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের এক সময় ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা হলে এরপর মুখে খাবার ওষুধেও ফিরে যাওয়া যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে রক্ত গস্নুকোজ মানে উন্নতি হলে ওষুধের মাত্রা কমাতেও পারেন।
অনেকের ধারণা ইনসুলিন নিচ্ছি মানে যা ইচ্ছা তা খাওয়ার লাইসেন্স পেয়ে গেলাম। এ কথাও ঠিক নয়।
খাওয়া যথাযথ না হলে রক্তের গস্নুকোজ নামাবার জন্য ইনসুলিনকে আরও কঠোর শ্রম করতে হয়। মুখে খাবার ওষুধের মতই ইনসুলিন ডায়াবেটিসের জন্য একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা মাত্র। তাই ইনসুলিন নিলেও সে সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়াম থাকতে হবে। তাহলে চিকিৎসা কার্যকর হবে। আর নিজের দেখভাল করতে হবে সঙ্গে সঙ্গে।
**************************
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস, বারডেম, ঢাকা
Subhagata@msn.com
দৈনিক ইত্তেফাক. ২৮ মার্চ ২০০৯।