ল্যাটেক্স হচ্ছে, রাবার গাছ থেকে উৎপন্ন দুধের মতো তরল একটি প্রাকৃতিক পদার্থ। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ল্যাটেক্স ব্যবহার করে বিভিন্ন জিনিস প্রস্তুত করা হয়। যেমন- গ্লাভস ও বেলুন। এসব প্রস্তুত করার সময় ল্যাটেক্সের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয় যাতে এগুলোর পিচ্ছিলতা বজায় থাকে এবং রাবারকে বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শ থেকে দুরে রাখা যায়।
এসব রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে অ্যালার্জির রোগী ল্যাটেক্স ব্যবহার করলে তাদের অ্যালার্জির প্রকোপ বেড়ে যায়। গ্লাভস ও বেলুনের পাশাপাশি কনডমের কথাও এক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সীমিত কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় ল্যাটেক্স অ্যালার্জির কারণে রাবার ব্যান্ড, পেসিলের দাগ তোলার ইরেজার, বাবারের তৈরি খেলনা, মেডিকেল সরঞ্জাম, কাপড়ে রাবারের ইলাষ্টিক এবং বাচ্চাদের ফিডার ব্যবহার করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে শক্ত ক্রেপ রাবার, যেমন জুতার তলার কারণে সচরাচর অ্যালার্জি হয় না। রাবার থেকে উৎপন্ন পেইন্ট সচরাচর অ্যালার্জি উৎপন্ন করে না, যদি না এর সঙ্গে ল্যাটেক্স মেশানো হয়।
অ্যালার্জির ধরনঃ ল্যাটেক্স থেকে দুই ধরনের অ্যালার্জি সংঘটিত হয়। প্রথমটি হচ্ছে ডিলেইভ ধরনের কন্টাক্ট ডারমাটাইটিস। এক্ষেত্রে শরীরে র্যাশ বা চাকা দাগ তৈরি হয়। র্যাশ বেশি দেখা যায় (গ্লাভস ব্যবহার করা হয় হাতেই) তবে শরীরের অন্য অংশ ল্যাটেক্সের সংস্পর্শে এলে সেখানেও র্যাশ বের হয়। এই ডারমাটাইটিসের কারণ হচ্ছে রাবারের সঙ্গে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য। আশার কথা হচ্ছে, খুব বিরক্তিকর হলেও এ ধরনের অ্যালার্জি লাইফের প্রতি হুমকি নয়।
দ্বিতীয় অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, আইজিই বাহিত অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া। এটি খুবই মারাত্মক। এ ধরনের রোগীরা সচরাচর আগেই ল্যাটেক্সের সংস্পর্শে এসে সেনসিটিভ বা স্পর্শকাতর হয়ে থাকেন। অর্থাৎ এরা হচ্ছেন ল্যাটেক্স স্পেসিফিক আইজিই এন্টিবডি পজিটিভ। এরা পরে আবার ল্যাটেক্সের সংস্পর্শে এলে শুরু হয় চুলকানি, শরীর লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে ওঠা, হাঁচি এবং শ্বাসকষ্ট। অনেকক্ষেত্রে এই অ্যালার্জি জীবনের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। তখন তাকে বলা হয় অ্যানফাইলেক্সিস। এ ধরনের রোগীর উপসর্গ হচ্ছে শক, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া। ত্বরিত ব্যবস্হা না নিলে জীবনহানি ঘটতে পারে।
**************************
ডাঃ গোবিন্দ চন্দ্র দাস
আমার দেশ, ০৭ এপ্রিল ২০০৯।