স্বাস্থ্যকথা - http://healthz.info
কাটিয়ে উঠুন মানসিক চাপ
http://healthz.info/articles/1583/1/aaaaaa-aaaa-aaaaaa-aaa-/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/8/2009
 
চাপ অর্থ অনুভূতি ও শারীরিক চাপ। এ দুটি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি বাড়লে আরেকটি বাড়ে, আরেকটি কমলে অন্যটি কমে। তাই এ লেখায় মানসিক চাপের কথা বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। চাপ নির্ভর করে মানুষের আবেগের ওপর। আবার আবেগটা নির্ভর করে মানুষ তার পরিবেশ-পরিস্থিতি কী করে সামাল দেয় এর ওপর। বিভিন্ন রকমের মানুষ বিভিন্ন রকম উপায়ে পরিবেশ-পরিস্থিতিকে চাপপূর্ণ মনে করে।

কাটিয়ে উঠুন মানসিক চাপ

চাপ অর্থ অনুভূতি ও শারীরিক চাপ। এ দুটি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি বাড়লে আরেকটি বাড়ে, আরেকটি কমলে অন্যটি কমে। তাই এ লেখায় মানসিক চাপের কথা বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। চাপ নির্ভর করে মানুষের আবেগের ওপর। আবার আবেগটা নির্ভর করে মানুষ তার পরিবেশ-পরিস্থিতি কী করে সামাল দেয় এর ওপর। বিভিন্ন রকমের মানুষ বিভিন্ন রকম উপায়ে পরিবেশ-পরিস্থিতিকে চাপপূর্ণ মনে করে।

শারীরিক চাপ
নানা কারণে চাপ শরীরের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াকে বোঝায়। যেমনটা সার্জারি করার পর বিভিন্ন ধরনের ব্যথা হয়ে থাকে। গলস্টোন অপারেশনের পর যেমন পেটে ব্যথা, গ্যাস্ট্রিকের প্রবণতা, কোমরে ব্যথা-এগুলো হচ্ছে শারীরিক চাপ। এই শারীরিক চাপগুলো আবেগগত চাপ সৃষ্টি করে এবং এই দুইয়ে মিলে তখন পরিবেশটা হয়ে যায় একটু জটিল। চাপ নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন ধরনের টেনশনকে কমানোর এবং তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উপসর্গগুলোকে কমানোকে বোঝায়। তবে কতটুকু চাপ কমতে পারে তা নির্ভর করে চাপের মাত্রা ও ব্যক্তির ইচ্ছাশক্তির ওপর।

বুঝবেন কী করে
দৃষ্টিভঙ্গিঃ ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই পরিবেশ চাপপূর্ণ কি চাপপূর্ণ নয়, তা তিনি বুঝে নিতে পারেন। নেতিবাচক চিন্তার ব্যক্তিরা খুব সহজেই চাপে আক্রান্ত হয়। তাদের চেয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির লোকজন চাপে আক্রান্ত হয় কম।

শারীরিক সক্ষমতাঃ সুষ্ঠু ও সুষম খাদ্য গ্রহণ মানসিক ও শারীরিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। অসুস্থ খাদ্যদ্রব্য, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলো গ্রহণ শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়। তখনই ব্যক্তি নানা ধরনের অসুখে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, সঠিক সময়ে সঠিকভাবে না খাওয়া একজন ব্যক্তির পুষ্টিচাহিদা পরিপূর্ণ করতে পারে না। এ ধরনের শারীরিক চাপ ব্যক্তির মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। কারণ সঠিক পুষ্টি আমাদের মস্তিষ্কে ক্রিয়া সৃষ্টি করে। অপুষ্টি আমাদের মস্তিষ্কে ক্রিয়া করতে পারে না।

মানসিক সহায়তাঃ প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের খারাপ সময়ে এক ধরনের মানসিক সহায়তা আশা করে থাকে। এই সহায়তা বিভিন্ন ধরনের সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং, সাইকোথেরাপি, গ্রুপ থেরাপি ইত্যাদি হতে পারে।

শিথিলায়নঃ শিথিলায়ন বা রিলাক্সেশন, যারা অন্তমুêখী তাদের চেয়ে যারা বহির্মুখী চরিত্রের তারা সহজভাবে চাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যারা অন্তমুêখী ব্যক্তিত্বের লোক, বহির্জগতের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ কম, তাদের শখ কম থাকে এবং তারা কী করে শিথিলায়ন করতে হয় তা কম জানে।

চাপ কমাবেন কী করে
১· আপনার নেতিবাচক চিন্তাগুলো দূর করার চেষ্টা করুন। ২· বিভিন্ন বিনোদনমূলক, সামাজিক, পারিবারিক আমোদ-প্রমোদমূলক বন্দোবস্ত করুন। ৩· নেতিবাচক চিন্তাকে ইতিবাচকে পরিবর্তন করুন। একটুখানি অবসর নিন। ইতিবাচক চিন্তা করুন।

কাজের মাধ্যমে চাপ কমান
বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ ন্যূনতম ২০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন দিন এই পরিশ্রমের কথা বলে থাকেন। বিশেষ সময় ধরন, পরিমাণ ও শারীরিক কাজকর্মে লেভেল নির্ধারণ করে নিন। আপনার সারা দিনের সময়ের সঙ্গে খাপ খায়, এমন সময় বের করুন। আপনাকে উৎসাহ জোগায়, আপনাকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারে, এমন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। কঠিন কোনো ব্যায়ামে যাওয়ার দরকার নেই। শুধু ২০ মিনিট করে নিয়মিত হাঁটুন।

পথ্য
ফলমূল, শাকসবজি বেশি করে খান। এতে শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। সঠিক খাদ্য সঠিক সময়ে গ্রহণ করুন।

সামাজিক সহযোগিতা
বিভিন্নভাবে সামাজিকীকরণের পরিবেশে যোগ দিন। তাতে যদি আপনার মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, এর পরও যান। নিজেকে আরও সুন্দরভাবে পরিচালিত করুন এবং বিভিন্ন ধরনের ভালো মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করুন। 
 
বিষণ্ন শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!
শৈশবে আনন্দহীন আর বঞ্চনায় থাকার সঙ্গে বড় হয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ ও কর্মহীন থাকার একটা যোগসূত্র সম্প্রতি খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। লন্ডন কিংস কলেজের একদল গবেষক ১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় সাত হাজার ১০০ জনের এ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করেন। তাঁরা দেখেছেন, স্কুলের শিক্ষকেরা যেসব শিশুকে ‘অসুখী ও দুর্দশাগ্রস্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, মধ্যবয়সে তাদের অসুস্থ হয়ে থাকার ঝুঁকি পাঁচ গুণ বেশি। গবেষণায় যুক্তরাজ্যের এবার ডিনে পঞ্চাশের দশকে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা শিশুদের অন্তভুêক্ত করা হয়। ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রিতে গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

ওইসব শিশুর মনমেজাজ এবং স্কুলে উপস্থিতির হার সম্পর্কে তাদের শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করা হয়। এরপর গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা এখন মধ্যবয়সী, তাঁরা কে কী করছেন, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে পাঁচ দশমিক পাঁচ শতাংশ শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারছেন না।

এদের এক-চতুর্থাংশ সম্পর্কে শিক্ষকেরা বলেছিলেন, তারা প্রায়ই প্রচণ্ড মনখারাপ ও কান্নাভেজা চোখে স্কুলে আসত। প্রধান গবেষক ড· ম্যাক্স হেন্ডারসন বলেন, ‘আমরা এটা হয়তো নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে শৈশবে এ ধরনের প্রবণতাই পরবর্তী জীবনে তাদের অসুস্থতার জন্য দায়ী।’

তবে এ দুটোর মধ্যে অবশ্যই একটা সম্পর্ক আছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী গবেষণার ফলাফল বিবেচনায় ধারণা করা যায়, এ ধরনের লোক হতাশা ও উদ্বেগপ্রবণ-কর্মহীন থাকার যা একটি প্রধান কারণ। ইউকে ফ্যাকাল্টি অব পাবলিক হেলথের সভাপতি ড· মারয়ন ডেভিস বলেন, এ গবেষণায় একটি সাধারণ সামাজিক চিত্রও উঠে এসেছে। তা হলো, যেসব শিশুর জীবনে আনন্দ থাকে না এবং স্কুলে যেতে আগ্রহ কম থাকে, সাধারণত তাদের অভিভাবকেরাই শিশুদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হন না এবং পরিবারেও ওই সব শিশু নানা দিক দিয়ে বঞ্চিত হয়।

**************************
অধ্যাপক এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ
বিবিসি হেলথ অনলাইন অবলম্বনে কাজী ফাহিম আহমেদ
প্রথম আলো, ২৯ এপ্রিল ২০০৯।