সমস্যাঃ আমার বয়স ২৬ বছর। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খুঁজছি। বন্ধুদের সঙ্গে একটি মেসে থাকি। দেড় মাস ধরে আমার গায়ে জ্বর ও গরম-গরম লাগে। বিকেলে ও রাতে জ্বর বেশি হয় এবং ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যায়। এত ঘাম হয় যে রাতে জামাকাপড় ভিজে যায়। এক মাস ধরে কাশি হচ্ছে। প্রথমে কাশির সঙ্গে কোনো কফ বেরোত না, কিন্তু এখন মাঝেমধ্যে বের হয়। কাশির জন্য কফের সিরাপ খেয়েছি, কোনো উপকার পাইনি; বরং কাশি দিন দিন বাড়ছে। ইদানীং লক্ষ করছি, আমার ক্ষুধা একেবারে কমে গেছে এবং গত দুই মাসে ওজন ৬০ কেজি থেকে ৫৬ কেজিতে নেমেছে। আমার খুব দুর্বল লাগে। মাঝেমধ্যে এত দুর্বল লাগে যে চাকরির ইন্টারভিউ দিতেও খুব কষ্ট হয়। এখানে উল্লেখ্য, ১৫ বছর আগে আমার দাদুর ফুসফুসে যক্ষ্মা হয়েছিল। তিনি নয় মাসের চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং এখন তিনি সুস্থ। আমি তাঁর সঙ্গে একই ঘরে থাকতাম। এখন ভয় হচ্ছে, দাদুর মতো আমারও যক্ষ্মা হলো কি না! আমার এখন কী করা উচিত? মাসুদ রানা, বাড্ডা, ঢাকা।
পরামর্শঃ আপনার শারীরিক উপসর্গগুলোর সঙ্গে যক্ষ্মার উপসর্গের অনেক মিল আছে। তবে আপনার ফুসফুসের যক্ষ্মা হয়েছে কি না, তা নির্ণয় করার জন্য একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কিছু পরীক্ষা প্রাথমিকভাবে করাতে পারেন। যেমন-কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (টিসি, ডিসি, এইচপি, ইএসআর), চেস্ট এক্স-রে পিএ ভিউ, স্পিউটাম ফর এএফবি পরপর তিন দিন, টিউবারকিউলিন স্কিন টেস্ট। পরীক্ষাগুলোর ফলাফল দেখে জানা যাবে আপনার ফুসফুসের যক্ষ্মা হয়েছে কি না বা আপনার আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে কি না। যদি আপনার যক্ষ্মা হয়ে থাকে, তাহলেও ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সঠিক মাত্রার ফুসফুসের যক্ষ্মার ওষুধ নিয়মিত খেলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ লোক যক্ষ্মায় আক্রান্ত। শতকরা ৯৫ ভাগ যক্ষ্মা রোগী ও শতকরা ৯৮ ভাগ যক্ষ্মা রোগের জন্য মৃত্যু আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে হয়ে থাকে। এ উন্নয়নশীল দেশের শতকরা ৭৫ ভাগ যক্ষ্মা রোগী জীবনের সবচেয়ে উপার্জনক্ষম সময়ে, অর্থাৎ ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সে আক্রান্ত হয়। যক্ষ্মা আমাদের দেশে একটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ২০০০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রতি লাখ মানুষের মধ্যে ২৩৮ জন এবং প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ মানুষ নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হয়। সহজ ভাষায় বলা যায়, আমাদের দেশে প্রতি দুই মিনিটে একজন নতুন করে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয় এবং প্রতি আট মিনিটে একজন যক্ষ্মা রোগের জন্য মৃত্যুবরণ করে। যদিও যক্ষ্মা রোগের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ নেই, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ রোগে আক্রান্ত রোগীর জ্বর, কাশি, ক্ষুধামান্দ্য, ওজন কমে যাওয়া, রক্ত আসার মতো উপসর্গ থাকে। তাই এ ধরনের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পেলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
**************************
ডা· মো· দেলোয়ার হোসেন
বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
বারডেম হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, শাহবাগ, ঢাকা
দৈনিক প্রথম আলো, ০২ জানুয়ারী ২০০৭