স্বাস্থ্যকথা - http://healthz.info
পরিমিত আহার কম ওজন
http://healthz.info/articles/2365/1/aaaaaa-aaaa-aa-aaa/Page1.html
Health Info
 
By Health Info
Published on 05/7/2010
 
কি অবাক হচ্ছেন, তাই না? গবেষণায় দেখা গেছে, বহু খাবার ্লিম হতে সাহায্য করে। প্রতিটি খাবারে নির্দিষ্ট ক্যালরি থাকে। সেই খাবার হজম করতে আমরা কিছু ক্যালরি ব্যয় করি। সাধারণত বেশির ভাগ খাবারে থাকা ক্যালরি কিছুটা খরচ হয় বটে কি‘ বাকি অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে মেদ হিসেবে যুক্ত হয়। তবে এমন কিছু খাবার আছে যা হজম করতেই ওই খাবারে যে ক্যালরি আছে তার থেকে বেশি ক্যালরি খরচ হয়। এসব খাবারকে ‘নেগেটিভ ক্যালরি খাবার’ বলা হয়। আমাদের প্রবণতা অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা কষিয়ে খাওয়া, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে একদম ঠিক না। পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে। যে সব সবজি ও ফলমূলে পানি বেশি থাকে এবং যেগুলো ফাইবারসমৃদ্ধ, সেসব সবজি-ফলমূল খেতে হবে বেশি বেশি। খাবারে গোশতের পরিমাণ কম রেখে তরকারি খেতে হবে বেশি পরিমাণে। খাওয়ার পর একটু হেঁটে আসতে পারলে তো খুব ভালো

পরিমিত আহার কম ওজন

কি অবাক হচ্ছেন, তাই না? গবেষণায় দেখা গেছে, বহু খাবার ্লিম হতে সাহায্য করে। প্রতিটি খাবারে নির্দিষ্ট ক্যালরি থাকে। সেই খাবার হজম করতে আমরা কিছু ক্যালরি ব্যয় করি। সাধারণত বেশির ভাগ খাবারে থাকা ক্যালরি কিছুটা খরচ হয় বটে কি‘ বাকি অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে মেদ হিসেবে যুক্ত হয়। তবে এমন কিছু খাবার আছে যা হজম করতেই ওই খাবারে যে ক্যালরি আছে তার থেকে বেশি ক্যালরি খরচ হয়। এসব খাবারকে ‘নেগেটিভ ক্যালরি খাবার’ বলা হয়। আমাদের প্রবণতা অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা কষিয়ে খাওয়া, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে একদম ঠিক না। পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে। যে সব সবজি ও ফলমূলে পানি বেশি থাকে এবং যেগুলো ফাইবারসমৃদ্ধ, সেসব সবজি-ফলমূল খেতে হবে বেশি বেশি। খাবারে গোশতের পরিমাণ কম রেখে তরকারি খেতে হবে বেশি পরিমাণে। খাওয়ার পর একটু হেঁটে আসতে পারলে তো খুব ভালো হয়। বাড়তি মিষ্টি, চানাচুর, চিজ বা ঘি ইত্যাদি রাখবেন না। টেবিলে রাখবেন না কাঁচা লবণ। ০ লো ক্যালরি খাবার মানে শুধু সিদ্ধ বিাঁদ রেসিপি নয়, বেশি তেল-মসলা ছাড়াই এগুলোকে মুখরোচক করে প্র‘ত করতে জানতে হবে। ০ গাজর এমন এক খাবার যা খেলে আপনার ক্যালরি বার্ন হবে, যা আপনার মেদ কমাতে সাহায্য করবে। গাজর খেলে চোখ ভাল থাকে। এতে আছে বিটা ক্যারোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। শুধু কাঁচা নয়, রান্না করা গাজরেও পুষ্টিগুণ অক্ষুন্ন থাকে। গাজর মিষ্টি, খেতে ভালো অথচ আছে প্রচুর ফাইবার, এ কারণে তা পেট ভরানোর সাথে সাথে পেট পরিষ্ক্ষারও করে। ০ ফুলকপি যেমন সুাঁদু তরকারি, তেমনি তা উপকারী, বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের জন্য, গর্ভবতী এবং পেটের অসুখে। মটরশুঁটির সাথে তরকারিতে, খিচুড়িতে কিংবা মাছের সাথে মুখরোচক রান্নায় ফুলকপি খেতে ভালো লাগে। ফুলকপির মতোই উপকারী কলা, পেঁয়াজ বা মাশরুম। ০ বেগুন একটি দারুণ উপকারী সবজি। এতে পানির পরিমাণ থাকে বেশি, পটাশিয়াম থাকে বেশি। তবে তেল চুপচুপে বেগুনভাজা খেলে কস্মিনকালেও ্লিম হতে পারবেন না। ০ An apple a day keeps the doctors away  কথাটি সতভাগ সত্যি। আপেল পুষ্টি জোগায় কি‘ মোটা হতে দেয় না। আপেল শরীরের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এ রকমই একটি অমূল্য সবজি টমেটো, যাতে মেদ কমানোর উপাদান তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে ক্যান্সার প্রতিরোধক ক্ষমতা। টমেটো কোলেস্টেরল কমায়, রক্তচাপ বাড়তে দেয় না, হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়। ০ শসা নেগেটিভ ক্যালরি খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। পানি বেশি থাকায় এতে ক্যালরি কম। ফাইবারসমৃদ্ধ বলে এটি পেটের জন্য অত্য- উপকারী। ০ এ ছাড়া যেমন, করলা ও পেঁয়াজ প্যানক্রিয়াসের ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়াতে পারে বলে রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিক রোগীর পক্ষে উপকারী। ওজন বাড়ার প্রতিরোধক হিসেবে রসুন শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। রসুন রক্তচাপ কমায়, খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, ভালো কোলোস্টেরল বাড়ায়, রক্ত জমাট বাঁধতে বাধ্যগ্র- করে হৃদরোগের ঝুকি কমায়। ০ ছানা খেতে পারেন তবে তা তৈরি হতে হবে মাঠা তোলা দুধ দিয়ে। সম্প্রতি জানা গেছে, ভূঁড়ি যাতে না বাড়ে সে জন্য এই বিশেষ খাবারটি কাজ দেয়। মিথায়োনিন যুক্ত এই প্রোটিন খাবারটি সারা শরীরে ফ্যাটকে সচল রাখে। যার ফলে ফ্যাট জমাতে পারে না, ভূঁড়ি হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। ছানার মতো টকদইও এই একইভাবে কাজ করে। ডিমের সাদা অংশে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরে মিল মাসল গড়ে, যা মেটাবলিজম দ্রুত করতে সাহায্য করে, ফলে শরীরে মেদ জমে না। সকাল শুরু করতে পারেন মধু-লেবুর ঈষদঞ্চ এক গ্লাস পানি দিয়ে। পাতি লেবু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। মৌসুম বুঝে পছন্দ করতে হবে তরমুজের মতো ফল, যা ৯২% পানি থাকার কারণে ক্যালরি অত্য- কম অথচ পুষ্টিতে ঠাসা। ভিটামিন ও মিনারেলের জন্য খেতে হবে মটরশুঁটি বা শিম জাতীয় বিনস। যা-ই খাই, খেতে হবে এক জায়গায় বসে, রিল্যাক্স হয়ে, আস্তে আস্তে ভালোমতো চিবিয়ে। এভাবে মুখের ভেতরের এনজাইম বেশি সক্রিয় হয়, যা কম খাবারে পেট ভরাতে সাহায্য করবে। শুধু মাত্র জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে যে কেউ মেদ কমাতে পারে এবং এই ধারা বজায় রেখে পারেন হ্রাসকৃত ওজন ধরে রাখতে। এটি কষ্টসাধ্য কি‘ অসম্ভব নয়। কি‘ ইচ্ছাশক্তি প্রবল ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। চটকদার বিজ্ঞাপন এবং ভুল-শুদ্ধ অগনিত প্রচার প্রপাগাণ্ডায় সহজে বাতলিয়ে দেয়া বাজারে প্রচলিত ওষুধ ও পদ্ধতিগুলো জীবনের জন্যে হুমকিও হতে পারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। তাই আসুন ঝুকিবিহীন পদ্ধতিতে, ওষুধ নয়, সুষম খাদ্য, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও পরিশ্রমে ভারসাম্য এনে বাড়তি মেদকে ঝরিয়ে ফেলি, সুস্থ সুন্দর জীবনযাপন করি।

**************************
ডাঃ আবু হেনা আবিদ জাফর
দৈনিক ইত্তেফাক,  ২৪ এপ্রিল ২০১০।