স্বাস্থ্যকথা

আধুনিক চিকিৎসা

(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »

কৃত্রিম শুক্রাণু এবার গবেষণাগারেই

স্পার্ম বা শুক্রাণু কৃত্রিমভাবে গবেষণাগারেই তৈরি করতে সফল হলেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে আগামী দিনে পুরুষদের বন্ধ্যত্ব দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিত্সা অনেক সহজ হবে বলে দাবি করেছেন তারা। ইংল্যান্ডের নিউক্যাসলের একটি গবেষণাগারে অ্যামব্রায়োনিক স্টেম সেল থেকে এ মানব শুক্রাণু তৈরি সম্ভব হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। বৃদ্ধির প্রথম পর্যায়ে থাকা এই শুক্রাণুগুলো ভিটামিন ‘এ’ থেকে আহরিত রেটিনয়িক অ্যাসিডকে (Retinoic Acid) মানবদেহের অ্যামব্রায়োনিক স্টেম সেলের সঙ্গে ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে।

**************************
দৈনিক আমার দেশ, ৫ ডিসেম্বর ২০১০।
লিভার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ১৯৫২ সালে জাপানিজ একদল চিকিৎসক ওলিম্পাস কোম্পানির টেকনিক্যাল সহযোগিতায় একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন যার সাহায্যে দেহের অভ্যন্তরে সরাসরি লাইট ফেলে সব অঙ্গ নির্ভুল ও নিখুঁতভাবে দেখা যায়। এর নাম এন্ডোসকপি- শুধু রোগ নির্ণয় নয়, অনেক রোগের চিকিৎসায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে ভিডিও এন্ডোসকপি আবিষ্কৃত হয়েছে যার ফলে ছবি কয়েকগুণ বড় করে নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্ভব।
নারীর ভূমিকা এখন আর জননী, জায়া ও কন্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে আর্থসামাজিক এবং জাতীয় রাজনীতিতে আমাদের দেশের নারীর রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা। নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু নারীর প্রাপ্য অধিকারকেই নিশ্চিত করবে না বরং বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পরিবার, সমাজ ও দেশের সমৃদ্ধি তাতে ত্বরাম্বিত হবে।
হালিমা খাতুন (ছদ্মনাম) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পঞ্চাশের ওপর বয়স। এ বয়সেই তাঁর চোখে ছানি পড়েছে। ফলে ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারেন না। তিনি জেনেছেন ছানি রোগের ভালো চিকিৎসা হচ্ছে আজকাল। আগের মতো আর অপারেশনের পর দুই দিন সটান শুইয়ে রাখা হয় না। এরপর মাস দেড়েক পর মোটা কাচের চশমা ব্যবহার করতেও হয় না। আগে হাজার পাওয়ারের ওপরে, ওই চশমা হারিয়ে গেলে নতুন চশমা না নেওয়া অবধি অচল থাকতে হতো। আজকাল আর এসব নেই। চোখে অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম লেন্স সংযোজন করা হয়। ফলে রোগী অস্ত্রোপচার সম্পন্নের দিন থেকেই দেখতে শুরু করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক দিনের মতো চোখ ঢেকে রাখা হয়, পরের দিন থেকেই দৃষ্টি লাভ! কৃত্রিম লেন্স সংযোজনের দরুন পুরোপুরি দৃষ্টিপ্রাপ্তি সম্ভব। অর্থাৎ তরুণ বয়সের দৃষ্টিশক্তির মতোই দৃষ্টিশক্তি পাওয়া যায়। হালিমা খাতুন এসব জেনেই এসেছেন ছানির অপারেশন করাতে।
পিত্তপাথর অতি বড় অসুখ। এই অসুখটি প্রায় প্রতিটি দেশের মানুষের মাঝে দেখা যায়। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অষ্ট্রেলিয়াসহ সর্বত্র এর বিস্তার লক্ষণীয়। সর্বাধিক দেখা যায় সুইডেনে যেখানে শতকরা হার ৩৮ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়াতে শতকরা ১৫ থেকে ২৫ ভাগ পাওয়া যায়। সর্বনিম্ন হার দেখা যায় আয়ারল্যান্ডে মাত্র শতকরা ৫ ভাগ। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের এই রোগের হার দ্বিগুণ। যথাক্রমে শতকরা ৪৯ ভাগ থেকে ৭৩ ভাগ পর্যন্ত। আফ্রিকাতে এর হার খুবই কম যার শতকরা হার ১ ভাগেরও কম।
অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকের হাঁটুর নিচে দুই থেকে তিন ইঞ্চির মতো অংশ মাংসসহ হাড় থেঁতলে যায়। এ অবস্হায় হাসপাতালে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। মাসের পর মাস ড্রেসিং করা ও ওষুধ খাওয়ার ফলে তাদের পা রক্ষা পায়। ঘা শুকাতে ৩-৪ মাস সময় লাগে। ঘা শুকানোর পর দেখা যায় দুই-তিন ইঞ্চির মতো হাড় নেই। ভুক্তভোগী শত শত রোগীর জন্য সুখবর হচ্ছে, এতদিন থেতলে যাওয়া হাত বা পায়ের অংশ শরীর থেকে কেটে ফেলা হতো। কিন্তু বর্তমানে এলিজারোব নামক উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে এসব ভাঙা হাত-পা জোড়া লাগানোসহ প্রয়োজনমত বড় করা যায়। এলিজারোব পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থোপেডিক চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।
রেকটাম বা মলাশয় ক্যান্সার হলে প্রচলিত অপারেশন হচ্ছে রেকটাম বা মলাশয় ও মলদ্বার কেটে ফেলে পেটে Colostomy বা কৃত্রিম মলদ্বার বানিয়ে সেখানে ব্যাগ লাগিয়ে দেয়া, যার মধ্যে সব সময় মল জমা হবে এবং রোগী মাঝে মধ্যে এটি পরিষ্কার করে নেবেন। তার স্বাভাবিক মলদ্বার থাকবে না এবং সারা জীবন ওই পথে আর পায়খানা হবে না। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফলে এখন স্বাভাবিক মলদ্বার রেখেই ক্যান্সারটি অপসারণ করা যায়। রোগী স্বাভাবিক পথেই পায়খানা করতে পারবেন। এ প্রযুক্তির ফলে ৭০-৮০% রেকটাম ক্যান্সার রোগী উপকৃত হবেন।
রেকটাম বা মলাশয় ক্যান্সার হলে প্রচলিত অপারেশন হচ্ছে রেকটাম বা মলাশয় ও মলদ্বার কেটে ফেলে পেটে Colostomy বা কৃত্রিম মলদ্বার বানিয়ে সেখানে ব্যাগ লাগিয়ে দেয়া, যার মধ্যে সব সময় মল জমা হবে এবং রোগী মাঝে মধ্যে এটি পরিষ্কার করে নেবেন। তার স্বাভাবিক মলদ্বার থাকবে না এবং সারা জীবন ওই পথে আর পায়খানা হবে না। কিন্তু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফলে এখন স্বাভাবিক মলদ্বার রেখেই ক্যান্সারটি অপসারণ করা যায়। রোগী স্বাভাবিক পথেই পায়খানা করতে পারবেন। এ প্রযুক্তির ফলে ৭০-৮০% রেকটাম ক্যান্সার রোগী উপকৃত হবেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানী অ্যান্ডোস্কোপি সার্জারি বা মিনিম্যাল এক্সেস সার্জারি (এমএএস) যাকে ল্যাপারোস্কপি বলা হয়­ নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। জার্মানির শ্যাম ও লিন্ডারম্যান, ফ্রান্সের ব্রুহাটও হ্যাময়, ইংল্যান্ডের স্যাটন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রিচও গোল্ডরথে ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালে অ্যান্ডোস্কোপি সার্জারিতে এক বৈপ্নবিক পরিবর্তন আনেন। শল্য চিকিৎসায় প্রথম পিত্ত থলি অপারেশন (ল্যাপকলি) হয় ১৯৮৫ সালে। ১৯৮৭ সাল থেকে এটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। আর বর্তমান সময়ে ল্যাপারোস্কপি শল্য চিকিৎসার এমন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েছে যে এটিকে চিকিৎসকের স্টেথোস্কোপ বা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড বলা হয়ে থাকে।
ইনজেকশনের মাধ্যমে যে ওষুধ শরীরের মাংসপেশির মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয় তা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে রক্তনালির কৌষিকার মাধ্যমে শোষিত হয়ে যায়। আবার যে ওষুধ সরাসরি শিরার মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয় তা সরাসরি রক্তে মিশে যায়, যে কারণে এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শোষণের প্রয়োজন হয় না। সব সময় মনে রাখা দরকার, ওষুধের গুণাগুণের ওপর নির্ভর করে ওষুধ কতখানি বা কত সময়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে অবস্থান করবে।
(Page 1 of 2)   
« Prev
  
1
  2  Next »


No popular authors found.