স্বাস্থ্যকথা

জন্ডিস

জন্মের পর প্রত্যেক বাচ্চার জন্ডিস হয়। বাচ্চার যখন তিনদিন বয়স, তখনই এর শুরু। কখনো আবার দুদিনের মাথায়ও এটা হতে পারে। সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এটা আপনা থেকেই ঠিক হয়ে যায়। এ ধরনের জন্ডিসের নাম ‘ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস’। সদ্যোজাত শিশুদের বিলিরুবিনের পরিমাণ খুব বেশি থাকে। কেননা যকৃতের যে উৎসেচক বা এনজাইমগুলোর বিলিরুবিন নিয়ন্ত্রণ করার কথা, সেগুলো শিশুর জন্মের অব্যবহিত পরেই তাদের কাজ ঠিকমত শুরু করে উঠতে পারে না। এটাই হলে ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিসের কারণ।
হেপাটাইটিস ভাইরাসজনিত রোগে প্রতি বছর বিশ্বে ১৫ লাখ মানুষ মারা যায়। বিশ্বে প্রতি ১২ জনের মধ্যে ১ জনের ‘বি’ অথবা ‘সি’ ভাইরাস রয়েছে। যারা ভাইরাসে আক্রান্ত তাদের অনেকেই জানে না, তারা ওই ভাইরাসে আক্রান্ত। কিছু হেপাটাইটিস রোগ হলে তা আর ভালো হয় না। তাই সবার উচিত হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘বি’ প্রতিরোধক টিকা নেয়া।
ভাইরাল হেপাটাইটিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক ভাইরাস হচ্ছে হেপাটাইটিস ‘সি’। সাধারণত রক্তের মাধ্যমে এ প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। ১৯৮৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। হেপাটাইটিস সি লিভারের একটি মারাত্মক শত্রু। হেপাটাইটিস সি নামক ভাইরাসটি লিভার কোষ ধ্বংস করে ফেলে লিভার প্রদাহের সৃষ্টি হয় ও লিভারের কোষ ধ্বংস অব্যাহত থাকে। হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের ৫-৮ বছরের মধ্যে এর কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না, ফলে ১০/১২ বছরের মধ্যে রোগী লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যাসারে আক্রান্ত হয়। অধিকাংশ রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে বুঝতেই পারে না যে তার মধ্যে ঘাতক ভাইরাস লুকিয়ে আছে। এ জন্যই সি ভাইরাসকে বলা হয় নীরব ঘাতক।
সমস্যাঃ স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে গিয়ে ছয় মাস আগে আমার এইচবিএসএজি পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এইচবিএসএজি, এইচবিইএজি, এসজিপিটি অ্যান্টি-এইচবিই, অ্যান্টি-এইচবিসিআইজিএম, এস-ক্রিয়েটিনিন, এইচবিভি-ডিএনএ প্রভৃতি পরীক্ষা করি, যার ফলাফল হচ্ছে এসজিপিটি হচ্ছে ৭৫ ইউএল, অ্যান্টি-এইচবিই নেগেটিভ, অ্যান্টি-এইচবিসিআইজিএম, নেগেটিভ, এস-ক্রিয়েটিনিন নরম্যাল এইচবিভি-এনএ হাই পজিটিভ, যার মান হচ্ছে ৯.১০৮ এমআই। কিন্তু দেড় মাস পর আবার এইচবিএসএজি এবং এসজিপিটি পরীক্ষা করাই, যার ফলাফল এসেছে। বর্তমানে আমার বয়স ২৩ বছর। এ ছাড়া রোগ ধরার পর মাত্র এক রাত আমার প্রচণ্ড জ্বর উঠেছিল।
লিভারের প্রদাহকে হেপাটাইটিস বলা হয়। বিভিন্ন কারণে ভিন্ন ভিন্ন দেশে হেপাটাইটিস হয়ে থাকে। এর মধ্যে ভাইরাস, মদ্যপান, বিপাকের অসংগতি ইত্যাদি। বাংলাদেশে সাধারণত এ, বি, সি, ডি, ই ভাইরাসের মাধ্যমে লিভারের প্রদাহ বা হেপাটাইটিস হয়ে থাকে। জন্ডিস দেখা দিলে এ রোগটি ধরা যায়। যদিও নিশ্চিত হওয়ার জন্য রোগীর রক্তের সিরামে এ ভাইরাসের নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডি উপস্থিত নিশ্চিত করতে হয়।
- লিভারের রোগ-এই রোগে ভাইরাসের সৃষ্ট প্রদাহে লিভারের কোষগুলো স্ফীত হয়ে তাদের কর্মক্ষমতা হারায়। ফলে লিভারে বিলিরুবিনের শোধন হয় না, অপরিশোধিত বিলিরুবিন রক্তে জমে যায়। তাছাড়া বাইল বা পিত্ত নিঃসরণও বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পরিশোধিত বিলিরুবিনও শরীর থেকে বেরিয়ে না গিয়ে রক্তে জমে যায়।
‘আপনি কি নম্বর ১২’ ‘আমি কি নম্বর ১২’-এই অভিযান ইতিমধ্যে ৫৫টি দেশে সাড়া জাগিয়েছে। উঁচুদরের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে সিডনি থেকে সার্বিয়া, বেইজিং থেকে বুয়েনস এইরেস। বিশ্ব হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্সের সভাপতি চার্লস গোর বলেছেন, “যেখানে ক্রনিক হেপাটাইটিসে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ১৫ লাখ মানুষ, একে তো অবহেলা করা চলে না। ‘আমি কি নম্বর ১২’ অভিযানের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ১৯ মে আমরা হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’-কে বিশ্বজনীন স্বাস্থ্য পরিচর্যা এজেন্ডার মধ্যে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।” হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ রোগে প্রতিবছর ১•৫ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
১৯ মে সারা বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হলো বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বে প্রতি ১২ জনে একজনের রয়েছে হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’। অথচ অধিকাংশই লোকই জানে না যে তাদের এ রোগ রয়েছে। এই পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সবাইকে জানতে হবে হেপাটাইটিস সম্পর্কে, সচেতন হতে হবে এ রোগের বিষয়ে। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্যকুশল-এর এই বিশেষ আয়োজন।
হেপাটাইটিস-বি এক ধরনের ভাইরাস যা মুলত লিভারকে আক্রমণ করে। এর সংক্রমণের ফলে পৃথিবীর অন্যতম ঘাতক ব্যাধি লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার মতে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি বাহক এবং এদের ২০ শতাংশ লিভার ক্যান্সার ও সিরোসিসের কারণে মারা যেতে পারে। বাস্তবে হেপাটাইটিস-বি এইডসের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি সংক্রামক এবং প্রতিবছর এইডসের কারণে পৃথিবীতে যত লোক মৃত্যুবরণ করে তার চেয়ে বেশি মৃত্যুবরণ করে হেপাটাইটিস-বি’র কারণে।
ঘাতক ব্যাধি এইচআইভি/এইডসের কথা আজ আর কারো অজানা নয়। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার কারণে এ বিষয়ে অনেক সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রাপ্ত সমীক্ষায় বর্তমানে পৃথিবীতে ৩৩·২ মিলিয়ন নারী-পুরুষ এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত বলে জানা যায়। এইচআইভিতে আক্রান্ত মহিলার সংখ্যা হচ্ছে ১৫·৪ মিলিয়ন আর নিষ্পাপ শিশুর সংখ্যা প্রায় ২·৫ মিলিয়ন। ২০০৭ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২·৫ মিলিয়ন নারী-পুরুষ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয় আর এ বছর এইডসের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা হচ্ছে ২·৪ মিলিয়ন।


No popular authors found.